বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও শিক্ষানবিশ এএসপিগণের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত! নালিতবাড়িতে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার তিন শেরপুর নকলা হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতে নারী দালালকে জরিমানা বড় ভাইয়ের পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিল ছোট ভাই ডাকসু নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রবাস ফেরৎ শাহ জামালের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলা মাত্র ১৫ সেকেন্ডে হাতুড়ির ১৩টি আঘাত! সহকর্মীকে নি*র্ম*ম হ*ত্যা তরুণ রতনের জামালপুরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে ৭৫ কেজি ভারতীয় এলাচ জব্দ

‘খাটি গুড়’ মিলছে যশোরের গাছিদের গুড় মেলায়

রিপোর্টার :

সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্টাফ রিপোর্টার

ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে যশোরের চৌগাছায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী গুড়ের মেলা। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম।

 

মেলায় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নিজেদের উৎপাদিত গুড় নিয়ে হাজির হয়েছেন চাষিরা। গুড়ের মেলায় অংশ নিয়ে এবং উৎপাদিত গুড় বিক্রি করতে পেরে খুশি তারা। সেইসঙ্গে মেলা থেকে দেখেশুনে ভালো গুড় কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও।

আয়োজকদের দাবি, যশোরের গুড়ের ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে সারা দেশে যশোরের সুনাম রয়েছে। জেলার ৮টি উপজেলার চাষি পরিবারের সদস্যরা শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ ও গুড় তৈরির কাজ করেন। একসময় প্রচুর পরিমাণে গুড় উৎপাদন হলেও কালের বিবর্তনে কমে এসেছে গুড় উৎপাদন। সেইসঙ্গে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ ও গুড় উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত গাছির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে তৃৃতীয়বারের মতো তিন দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী  ‘ঐহিত্যবাহী খেজুর গুড়ের মেলার আয়োজন করেছে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসন।

মেলায় খেজুরের গুড়, পাটালিসহ খেঁজুর রস ও গুড় দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পিঠা-পায়েসের পসরা নিয়ে বসেছে উপজেলার দুই শতাধিক গাছি। পাশাপাশি স্কাউটসের সদস্যরা মেলায় রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি বিভিন্ন প্রকারের পিঠার স্টল দেয়া হয়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক নামে এক গাছি বলেন, ‘মেলার কারণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে। নিজেদের তৈরি গুড় নিজেরাই ন্যয্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছি। এবার মানভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতিকেজি গুড় বিক্রি করছি।’

আব্দুল কুদ্দুস নামে অপর এক গাছি বলেন, ‘এ বছর ১৩৯টি গাছ থেকে রস আহরণ করছি। প্রতিদিন ১০/১২ কেজি গুড় উৎপাদন হচ্ছে। আমরা নির্ভেজাল গুড় তৈরি করে মেলায় এনেছি। ভালো দাম পাচ্ছি।’

মোশারফ হোসেন নামে অপর এক গাছি বলেন, ‘এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ মেলা হচ্ছে। মেলার ফলে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। অনেকেই খেজুর গাছ কেটে রস আহরণ করছেন। তাছাড়া ভেজাল মুক্ত গুড়ের প্রচার-প্রচারণা হওয়ায় মানুষেরও আগ্রহ বেড়েছে। গুড়ে ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় আমরাও খুশি।’

এদিকে মেলার খবর পেয়ে ভিড় করেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। মেলা থেকে দেখেশুনে ভালো গুড় কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। খেজুর গুড়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি বেশি নেওয়ার দাবি তাদের।

আব্দুস সামাদ নামে এক দর্শণার্থী বলেন, ‘বাজারের থেকে গুড় কিনে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। আমি গত বছরও মেলা থেকে গুড় কিনেছিলাম। আজও ৪ কেজি গুড় কিনেছি সাড়ে ৪শ’ টাকা দরে। গুড়টা বেশ ভালো।’

নূর ইসলাম নামে অপর এক দর্শণার্থী বলেন, ‘মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। খাঁটি গুড়ের পরসা বসেছে। আমি পাঁচ কেজি ঝোলা গুড় ও ২ কেজি পাটালি কিনেছি। এ ধরনের মেলা বার বার হলে খেজুর গাছ কাটার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে এবং আমরা ভেজালমুক্ত গুড় খেতে পারবো। এমন আয়োজনের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

বেনজীন খান নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘আমি প্রথম এ মেলায় আসলাম। গুড়কে কেন্দ্র করে যে একটি মেলা হতে পারে এবং সেটা নিয়ে এত উচ্ছ্বাস এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না। গুড়তো হারিয়ে যাচ্ছিল। খেজুর গাছের কোনো কদর ছিল না। খেজুর গাছগুলো যেন জন্মাতো ইটভাটার জন্য। এ মেলা খেজুরের রস গুড়ের কদর বাড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ালে ও মার্কেটিং ব্যবস্থাপনাটা গড়ে তুলতে পারলে চাষীর আগ্রহ বাড়বে। সেই সঙ্গে এই গুড় ও আমাদের ঐতিহ্য টিকে থাকবে।’

আয়োজকদের দাবি জিআই পণ্য যশোরের গুড়ের ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুছাব্বির হোসেন বলেন, ‘মেলার মাধ্যমে দিন দিন গাছিদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি রসগুড় তৈরিতে আগ্রহ বাড়ছে। গত দুবারে মেলার চেয়ে এবারের মেলার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, মাত্র একটি পণ্য নিয়ে যশোরেই প্রথম মেলা এটি। এ সেক্টরে প্রবীনদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। যশোর ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গুড়কে ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর দেশজুড়ে এ জেলার রসগুড়ের খ্যাতি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেঁজুর গাছ চাষ, গাছ কাটা, রস আহরণ ও গুড় উৎপাদন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন খেঁজুর গাছ আজ অস্থিত্ব সংকটে। কৃষি পণ্য হিসাবে এমনকি শিল্প পণ্য হিসাবে খেঁজুর গাছের গুড়-রসের চাহিদা থাকার কারনে এই গাছ রক্ষায় নতুন করে মানুষ জেগে উঠেছে।’

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহার সভাপতিত্বে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, চৌগাছা থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা কামাল হোসেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. গোলাম মোর্শেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুছাব্বির হোসেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ