রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও শিক্ষানবিশ এএসপিগণের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত! নালিতবাড়িতে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার তিন শেরপুর নকলা হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতে নারী দালালকে জরিমানা বড় ভাইয়ের পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিল ছোট ভাই ডাকসু নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রবাস ফেরৎ শাহ জামালের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলা মাত্র ১৫ সেকেন্ডে হাতুড়ির ১৩টি আঘাত! সহকর্মীকে নি*র্ম*ম হ*ত্যা তরুণ রতনের জামালপুরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে ৭৫ কেজি ভারতীয় এলাচ জব্দ

ছিন্নমূল মানুষকে মূলধারায় নিয়ে আসার দাবি সমাজকর্মীদের

রিপোর্টার :

সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকায় ২২ হাজারের বেশি ছিন্নমূল মানুষ রয়েছে বলে জানা যায় ২০২২ সালের সরকারি পরিসংখ্যানের হিসাবে। যদিও বেসরকারি সংস্থার হিসাবে ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার। আর সারা দেশে শুধু পথশিশুর সংখ্যাই ১০ থেকে ১৫ লাখ। তারা ন্যূনতম নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, তাদের নিরাপত্তাহীনতাও চরম। এসব ছিন্নমূল মানুষকে মূলধারায় নিয়ে আসার দাবি সমাজকর্মীদের।

 

৮০ বছরের পারভীন। ৩৪ বছর আগে ভারত থেকে স্বামীর সঙ্গে আসেন বাংলাদেশে। স্বামীর মৃত্যুর পর রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ের প্ল্যাটফর্মেই কাটছে তার জীবন। আপনজন বলতে নেই কেউই।

 তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর ভারতে আর যাইনি। বসে থাকি। কেউ টাকা দিলে সেগুলো দিয়ে ভাত-রুটি খাই।’

কথা হয় ১০ বছরের মীমের সঙ্গে। মেয়ে বলে পরিবারের কাছ থেকেই সইতে হয়েছে অবহেলা-নির্যাতন। বাবার অত্যাচারের কারণে চার বছর ধরে পরিবার ছাড়া।
 
 
সে বলে, ‘আমার ভিক্ষা করা লাগে। ভিক্ষার টাকা দিয়ে ভাত কিনে খাই।’  
 
কংক্রিটের এই নগরীতে ফুটপাতই ছিন্নমূল মানুষের বসতি। বেশির ভাগই আশ্রয় খোঁজে বিভিন্ন পার্ক, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, ফুটওভারব্রিজের মতো খোলা জায়গায়। নামমাত্র সাহায্যও জোটে না সবার কপালে।
 
তারা বলছেন, ঘরবাড়ি নেই। বাধ্য হয়েই থাকতে হয় রাস্তায়। সাহায্য যা আসে, তা দিয়ে কিছুই হয় না। কিছু করারও নেই। বাচ্চাদেরকেও মানুষ করা যায় না।  
 
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, সারা দেশে ২২ হাজার ১১৯ জন ছিন্নমূল বা গৃহহীন মানুষ রয়েছে। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৫০ হাজার ছিন্নমূল মানুষের বসবাস। আর বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মতে, সারা দেশে শুধু পথশিশুর সংখ্যাই ১০ থেকে ১৫ লাখ। তাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। তবে লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অনেকেরই কাজের ব্যবস্থা করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা।
 
লিডো-আন্ডার দ্য স্কাইয়ের সামাজিক সংগঠক মো. সুজন মিয়া বলেন, ‘এখানে প্রায় সাড়ে চারশোর মতো বাচ্চা আছে। আমাদের স্কুলে আছে ৩০ জন।’  
 
 
ছিন্নমূল মানুষদের নেই কোনো স্থায়ী ঠিকানা, তাই দেয়া হয় না কোনো পরিচয়পত্র। রাষ্ট্রের দায়িত্ব থমকে থাকে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও কিঞ্চিত বাস্তবায়নের মধ্যে। তবে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ছিন্নমূল মানুষ বা বস্তিবাসীদের নাগরিক সুরক্ষাসেবা নীতিমালায় আনতে পারে বলে জানান সমাজকর্মীরা।
 
কোয়ালিশন ফর আন্ডার পোভার্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রেবেকা সেরনিয়াবাত বলেন,  

ছিন্নমূলদের স্বাবলম্বী করার জন্য বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে হবে। তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। তাদেরকে সামাজিক সুরক্ষা সেবা দিতে কার্ড দিতে হবে। তারা ওয়ার্ডভিত্তিক সেবা নেবেন।

 

সমন্বিত নীতিমালা বাস্তবায়ন করে ছিন্নমূলদের স্বাবলম্বী করার পরামর্শ সমাজবিজ্ঞানীদের। 


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ