শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও শিক্ষানবিশ এএসপিগণের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত! নালিতবাড়িতে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার তিন শেরপুর নকলা হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতে নারী দালালকে জরিমানা বড় ভাইয়ের পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিল ছোট ভাই ডাকসু নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রবাস ফেরৎ শাহ জামালের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলা মাত্র ১৫ সেকেন্ডে হাতুড়ির ১৩টি আঘাত! সহকর্মীকে নি*র্ম*ম হ*ত্যা তরুণ রতনের জামালপুরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে ৭৫ কেজি ভারতীয় এলাচ জব্দ

যে সব কারণে ঘোষণাপত্র না দিয়ে অন্য কর্মসূচি পালন করল বৈষম্যবিরোধীরা

রিপোর্টার :

সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্টাফ রিপোর্টার

‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে গত দুই দিনে নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র দেয়া হবে’ এমন ঘোষণার পর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীরা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

সোমবার রাতে দফায় দফায় বৈঠকের পর গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা একই সময়ে একই স্থানে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ নামে নতুন কর্মসূচি পালন করছে।

গত শনিবার থেকে যে ঘোষণাপত্র ঘিরে এত সাড়া তৈরি হলো, শেষ পর্যন্ত সেটি ছাড়াই কর্মসূচি পালন করতে হলো কেন সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিবিসি বাংলা কথা বলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং রাজনৈতিক গবেষকদের সাথেও।

তাদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, মূলত এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সংবিধান স্থগিত করার কথা বললে সরকারের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হতো।

অন্যদিকে, ঘোষণাপত্র বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেয়নি বিএনপি। যে কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্র কর্মসূচি দেয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায় বিএনপির নেতাকর্মীদের।

সরকারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের এই ঘোষণাপত্রের বিষয়টি বাদ দেয়ার জন্য সরকারকে এক ধরনের বার্তাও দেয়া হয়েছিল বিএনপির পক্ষ থেকে।

ওই সূত্রটির দাবি, সোমবার রাতে এই বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে লন্ডন থেকে টেলিফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এরপরই দফায় দফায় বৈঠক করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা এই ঘোষণাপত্রের বিষয়টি স্থগিত করলেও ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখে।

সরকারের ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগকে বিষয়টি প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ঘোষণাপত্র ঘিরে আমাদের কর্মসূচি বাতিল করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখন সবাইকে নিয়ে ঘোষণাপত্র দেয়া হবে, আমরাও ছাত্র জমায়েত করছি, এটিকে প্রাথমিক বিজয় হিসেবেই দেখছি আমরা।”

দার্শনিক ও সমাজ বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার অবশ্য অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র তৈরিতে সরকারের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিবিসি বাংলাকে মি. মজহার বলেছেন, “কোনো সরকারি ঘোষণায় নয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাঁচই অগাস্ট হয়েছে। সুতরাং ঘোষণাপত্র দেয়ার কোনো বৈধতা এই সরকারের নেই। এটা জনগণের ঘোষণাপত্র। এটা ছাত্রদেরই দেবার কথা।”


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ