বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও শিক্ষানবিশ এএসপিগণের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত! নালিতবাড়িতে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার তিন শেরপুর নকলা হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতে নারী দালালকে জরিমানা বড় ভাইয়ের পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিল ছোট ভাই ডাকসু নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রবাস ফেরৎ শাহ জামালের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলা মাত্র ১৫ সেকেন্ডে হাতুড়ির ১৩টি আঘাত! সহকর্মীকে নি*র্ম*ম হ*ত্যা তরুণ রতনের জামালপুরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে ৭৫ কেজি ভারতীয় এলাচ জব্দ

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে শিক্ষা যুদ্ধ করে চলছেন বাবার কোলে ভর করে এবার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছেন

অনামিকা সুলতানা , বগুড়া প্রতিনিধি

সংবাদটি শেয়ার করুন....

বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলা নিবাসী নাইছ খাতুন দু’টি পা আছে, কিন্তু তার  দুটি পায়ে নেই কোনো শক্তি ডান হাতও অকার্যকর।
তবুও থেমে থাকেনি নাইছ খাতুন ওরফে হাসি (২৪)।

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও বাবার কোলে চড়ে স্কুল থেকে কলেজ—এবার অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে সে।
জীবনযুদ্ধে এই সাহসী মেয়েটির সংগ্রাম ১৮ বছরের।

 

নাইছ বগুড়ার ধুনট উপজেলার বহালগাছা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা নজরুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক, মা আকতার জাহান গৃহিণী। নাইছ তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। ছোটবেলা থেকেই হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের হওয়ায় সবাই আদর করে ডাকেন “হাসি”।

 

জন্ম থেকেই তার দুই পা ও ডান হাত অকেজো। কেবল বাঁ হাতের শক্তিতে সে লেখাপড়ায় এগিয়ে চলেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার মনের দৃঢ়তা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

 

নাইছ ৬ বছর বয়সে ভর্তি হয় গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে ৩.৫৫ জিপিএ এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ২.৭৫ জিপিএ অর্জন করে। এরপর ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে অনার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই বাবার কোলে চড়ে প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা হেঁটে, এরপর সিএনজি অটোরিকশায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রের বিজ্ঞান ভবনের দ্বিতীয় তলায় পৌঁছে। কক্ষে গিয়ে একটি বেঞ্চে বসে বাঁ হাতে পরীক্ষা দেয় সে। প্রতিবন্ধী হিসেবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পায়।

 

নাইছের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, “জন্ম থেকেই মেয়ে প্রতিবন্ধী। অনেক কবিরাজ, ডাক্তার দেখিয়েছি। তবুও সুস্থ হয়নি। কিন্তু মেয়ের লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে সব কষ্ট ভুলে যাই।”

মা আকতার জাহান বলেন, “প্রতিদিন কোলে করে নিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছার কাছে ক্লান্তি হার মানে।”

নাইছ বলে, “শরীরে শক্তি নেই, কিন্তু মনের জোর আছে। আমি কারও বোঝা হতে চাই না। লেখাপড়া করেই আমি সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। ভবিষ্যতে একজন শিক্ষিকা হয়ে অন্যদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

 

ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ছোলায়মান হোসেন বলেন, “নাইছ অত্যন্ত মনোযোগী ছাত্রী। কলেজ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। তার সাফল্যে আমরা আশাবাদী।”

নাইছ খাতুনের জীবনযুদ্ধ শুধু নিজের জন্য নয়—এটা এক প্রতীক, যা দেখিয়ে দেয় মনের জোর থাকলে সীমাবদ্ধতাও অতিক্রম করা সম্ভব।


সংবাদটি শেয়ার করুন....



আমাদের ফেসবুক পেজ